পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার এক মাদ্রাসাছাত্রীর হত্যার পাঁচ বছর পার হলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমের কাছে আকুতি জানিয়েছেন নিহত ছাত্রীর পিতা ও পেশায় অটোরিকশাচালক কামরুজ্জামান শেখ।
সোমবার (২১ জুলাই) পিরোজপুর জেলা শহরের জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, “২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আমার মেয়ে কামরুন নাহার আখি (১৬)কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর আগের রাতেই আসামি রাসেদুল খন্দকার, এনামুল হক লিটন শেখ ও রাকিব খান বাবু আমাদের বাড়িতে এসে মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। লিটন শেখ তখন বলে, ‘তোর মেয়ের অশ্লীল ভিডিও আছে, তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে’। এরপর তারা ঘরে ঢুকে আখিকে মারধর করে।”
তিনি আরও জানান, “পরের দিন সকালে ঘরের চালের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হলেও সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
ঘটনার এক মাস পর, ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কামরুজ্জামান শেখ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: এম.পি ৮৬/২০, নাজিরপুর)। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তার।
তিনি জানান, “আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এখন বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। মোবাইলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আমাদের হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক লিটনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সরাসরি দেখা করার পরামর্শ দেন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভূইয়া বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


Comment here